বিমানের ব্ল্যাক বক্স কি জিনিস? ব্ল্যাক বক্স সম্পর্কে যেসব তথ্য জানা দরকার

বিমানের ব্ল্যাক বক্স কি জিনিস? ব্ল্যাক বক্স সম্পর্কে যেসব তথ্য জানা দরকার…

উড়োজাহাজ কোনো দুর্ঘটনার সম্মুখীন হলে সেই দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে সবচেয়ে সঠিক ধারণা লাভ করতে যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি দরকার তা হল এর ব্ল্যাক বক্স। আপনি হয়ত ইতিপূর্বে ব্ল্যাকবক্স শব্দটি শুনেছেন, কিন্তু ভেবে দেখেছেন কখনো যে এটি আসলে কী এবং কীভাবে কাজ করে? আপনার যদি সেই কৌতূহল থাকে, তাইলে যথাসম্ভব তা মেটানোর জন্য আজকের এই পোস্ট।

ব্ল্যাকবক্স অত্যন্ত মজবুতভাবে তৈরি। এর কাঠামো লিথিয়াম অথবা স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি। একটি কংক্রিটের ওয়ালে যদি ৭৫০ কিলোমিটার/ঘন্টা গতিতে ব্ল্যাক বক্সকে আছড়ে ফেলা হয়, তাতেও এটি টিকে থাকবে। এটি স্থির অবস্থায় ২.২৫ টন ওজন নিয়ে কমপক্ষে ৫ মিনিট অক্ষত থাকতে পারবে। সর্বোচ্চ ১১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এক ঘন্টা পর্যন্ত কোনো প্রকার ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই টিকে থাকবে ব্ল্যাকবক্স। ৬ হাজার মিটার গভীরে পানির নিচের চাপেও একটি ব্ল্যাক বক্স অক্ষত থাকতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার হল এর ওয়াটার-সেন্সর। ব্ল্যাকবক্সের বিশেষ সেন্সর যখন পানির সংস্পর্শে আসে (সাগর/নদীতে পড়লে) তখন এটি প্রতি সেকেন্ডে একটি করে সিগন্যাল পাঠায়, যা থেকে উদ্ধারকারী দল এর অবস্থান বুঝে ডিভাইসটি তুলে আনতে পারে। তবে ব্ল্যাকবক্সের ব্যাটারি যতদিন কাজ করবে ততদিনই এটি এই সিগন্যাল পাঠাতে পারবে। সাধারণত, সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত সিগন্যাল পাঠাতে পারে একটি ব্ল্যাক বক্স। আর পানির নিচ থেকে সর্বোচ্চ ৪ কিলোমিটার পর্যন্ত এই সংকেত আসতে পারে।

ব্ল্যাক বক্স কী জিনিস এবং কীভাবে কাজ করে?

বিমানের ব্ল্যাক বক্স হচ্ছে এমন একটি ডিভাইস যেটির কয়েকটি অংশ থাকে এবং এতে ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডিং ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডিং সংরক্ষিত থাকে। ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার অংশের নাম সংক্ষেপে এফডিআর, এবং ককপিটের ভয়েস রেকর্ডারের নাম সিভিআর। ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার অংশে বিমানের টেকনিক্যাল বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষিত হতে থাকে। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে প্লেনের গতি, বাতাসের গতি, বিমান কত উঁচুতে উড়ছে, জ্বালানী প্রবাহ, চাকার গতিবিধি প্রভৃতি। বড় আকারের উড়োজাহাজের ব্ল্যাক বক্সে এরকম ৭০০ পর্যন্ত প্যারামিটার সংরক্ষণ করা যায়। অপরদিকে, ককপিট ভয়েস রেকর্ডার অংশে বিমান চালকের কক্ষের সকল অডিও/কথাবার্তা রেকর্ড হয়। এতে করে পাইলট ও অন্যান্য ক্রু’র কথাবার্তা ও আলোচনা শুনতে পাওয়া যায়, যা থেকে শেষ মুহূর্তের সমস্যাগুলো সম্পর্কে ধারণা করা সম্ভব। ব্ল্যাক বক্স বিমানের পেছনের দিকে অবস্থিত থাকে।

এটি কীভাবে অক্ষত অবস্থায় থাকে?

এটি অত্যন্ত শক্ত ধাতব পদার্থ দিয়ে তৈরি করা হয়। কয়েকটি লেয়ার দিয়ে এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে প্রচণ্ড উত্তাপ, ভাঙচুর, পানি বা প্রচণ্ড চাপের মধ্যেও এটি টিকে থাকতে পারে। এটি ১০০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও অক্ষত থাকতে পারে। স্টেইনলেস স্টীল বা টাইটেনিয়ামের খোলস দিয়ে বাক্সের আবরণ তৈরি করা হয়।। ৬ হাজার মিটার গভীরে পানির নিচের চাপেও একটি ব্ল্যাক বক্স অক্ষত থাকতে পারে। । টিকে থাকার অনেকগুলো পরীক্ষায় পাস করার পরেই এগুলোকে বিমানে সংযোজন করা হয়।

ব্ল্যাক বক্সের পৃথক বক্স

১) ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার: এই বক্সে ফ্লাইটের দিকনির্দেশনা, উচ্চতা, জ্বালানি, গতি, টার্বুলেন্স ও কেবিনের মধ্যকার নানা তথ্য থাকে। প্রায় ২৫ ঘণ্টা ধরে 88 ধরনের বিভিন্ন ডেটা রেকর্ড করতে পারে এটি। বক্সটি এক ঘণ্টার জন্য প্রায় ১১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও ১০ ঘণ্টার জন্য ২৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। এই বক্সগুলো লাল বা গোলাপি রঙের হয় যাতে সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়।

২) ককপিট ভয়েস রেকর্ডার: এই বক্সটি শেষ দুই ঘণ্টার মধ্যে বিমানের মধ্যে ঘটে যাওয়া শব্দ রেকর্ড করে। এটি ইঞ্জিন, ইমার্জেন্সি অ্যালার্ম, কেবিন এবং ককপিটের শব্দ রেকর্ড করে যাতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে বিমানের অবস্থার পূর্বাভাস দেওয়া যায়।

এটি আসলে কালো নয়, এমনকি কোনো বাক্সও নয়

নামে ‘ব্ল্যাকবক্স’ হলেও বিমানের ব্ল্যাক বক্স আসলে কমলা রঙের হয়ে থাকে। কমলা রঙ অপেক্ষাকৃত সহজে দৃশ্যমান হওয়ার কারণেই এই ব্যবস্থা। অপরপক্ষে, ব্ল্যাক বক্স আসলে কোনো বক্স বা বাক্সের মত দেখতে নয়। ব্ল্যাকবক্সের কাঠামোতে সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয় একটি সিলিন্ডার, যেটি একটি প্ল্যাটফর্মের সাথে সংযুক্ত থাকে। সিলিন্ডারের পাশে বক্স আকারের কাঠামোর মধ্যে এর ব্যাটারি থাকে। আর সিলিন্ডারে থাকে মেমোরি ইউনিট। উড়োজাহাজ ও বিমানচালনা বিদ্যার বিশেষজ্ঞরা এটিকে ব্ল্যাক বক্স বলে না ডেকে বরং ‘ইলেকট্রনিক ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার’ বলে অভিহিত করেন।

রেকর্ডিং টাইম

ব্ল্যাক বক্সের ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার সাধারণত সর্বশেষ ১৭ থেকে ২৫ ঘন্টার ফ্লাইট ডেটা (বিমানের টেকনিক্যাল/যান্ত্রিক তথ্য) সংরক্ষণ করে রাখে। ককপিট ভয়েস রেকর্ডার পাইলট ও তার কক্ষের সবার কথাবার্তার সর্বশেষ ২ ঘন্টার রেকর্ড রাখে। সলিড স্টেট মেমোরি ড্রাইভ না হলে ম্যাগনেটিক স্টোরেজে এই রেকর্ডিং টাইম ৩০ মিনিটও হতে পারে।

তথ্য উদ্ধার

বিধ্বস্ত কোনো বিমানের ব্ল্যাক বক্স খুঁজে পাওয়ার পর এর তথ্য উদ্ধারের কাজ শুরু হয়। স্টোরেজ থেকে ডেটা নিয়ে তা বিশ্লেষণ করতে বিশেষ সফটওয়্যার ও যন্ত্রের দরকার হয়। সব মিলিয়ে এতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। এমনকি কয়েক মাসও লাগতে পারে।

ব্ল্যাক বক্সের ইতিহাস

১৯৫৩-৫৪ সালে বিমান দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় একটি ডিভাইস তৈরি করার কথা ভাবা হয়েছিল যা বিমান দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তথ্য দিতে পারে। যা দুর্ঘটনা থেকে বিমানকে বাঁচাতেও সাহায্য করতে পারে। প্রথম দিকে এটি লাল রঙের ছিল এবং ‘রেড এগ’ নামে পরিচিত ছিল। ডিভাইসটির ভিতরের দেয়ালগুলি কালো রঙের ছিল, তাই পরবর্তীতে এটি ‘ব্ল্যাক বক্স’ নামে পরিচিত পায়।

ব্ল্যাক বক্স ভবিষ্যত

ব্ল্যাক বক্স ও এর ব্যবহারযোগ্যতা উন্নততর করতে ভবিষ্যতে অডিওর পাশাপাশি ভিডিও রেকর্ডিংও রাখার ব্যাপারে কাজ হয়েছে। এছাড়া রেকর্ড করার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক তা ভূমিতে কোনো কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়ার ব্যাপারেও আইডিয়া এসেছে। ফলে তথ্য পেতে আর ব্ল্যাকবক্সের অপেক্ষা করতে হবেনা। যদিও এটা এখনও ব্যবহারযোগ্য বাস্তবতার মুখ দেখেনি। কৃত্রিম উপগ্রহের সাহায্য নিয়ে এটা সম্ভব হতে পারে। এছাড়া একই বিমানে একটির স্থলে একাধিক ব্ল্যাক বক্স রাখার ব্যাপারেও মত রয়েছে।

পাওয়ার সোর্স

ব্ল্যাক বক্স এর পাওয়ার এর যোগান দেয় ২ টা জেনারেটর এর কোনো একটা | একটা জেনারেটর থাকে ২৮ ভোল্টের DC সোর্স এর | আরেকটা থাকে ১১৫ ভোল্টের AC সোর্স এর।

CVR

পাইলট এর হেডসেট

কো-পাইলট এর হেডসেট

থার্ড ক্রু মেম্বার(যদি থাকে)

ককপিট এর ঠিক মাঝামাঝি

এই জায়গাগুলোতে মাইক্রোফোন রাখা থাকে। পাইলটদের নিজেদের মধ্যে কথা, পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন আওয়াজ যেমন কোনো সুইচ টেপার বা কোনো ধাক্কা এইসব গুলো মাইক্রোফোন ধরে নেয়। ধরে নিয়ে পাঠায় associated controll unit নামের একটা ইন্টারমিডিয়েট ডিভাইসে। এই ডিভাইসটা ওই শব্দগুলোকে প্রি-এম্পলিফিকেশন করে তারপর পাঠায় CVR এ।

এখানে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, যদি CVR ৩০ থেকে ২ ঘন্টার শব্দ রেকর্ডের ক্ষমতাসম্পন্ন হয়(টেকনোলজির উপর নির্ভর করে), তাহলে লম্বা উড়ানের সময় এরা কিভাবে এত সময়ের শব্দের হিসাব রাখে। আসলে এরা শেষের দিকের সময় এর হিসাব রাখে। উদাহরণস্বরূপ, ম্যাগনেটিক CVR এর ম্যাগনেটিক টেপ প্রতি ৩০ মিনিটে একটা loop ঘোরে। অর্থাৎ, টেপ এর একই অংশ ৩০ মিনিট পর পর ঘুরে ঘুরে আসে। আগের ৩০ মিনিটে রেকর্ড করা শব্দ পরের ৩০ মিনিটের শব্দের দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়ে যেতে থাকে। তাই এরকম কোনো ব্যাপার নেই যে ঘন্টার পর ঘন্টার উড়ানে হাজার হাজার গজ টেপ লাগে। এই ক্ষেত্রে ঠিক একইভাবে কাজ করে solid state technology ও।

ম্যাগনেটিক টেপ ব্ল্যাক বক্স

magnatic tape কাজ করে আমাদের ছোটবেলায় দেখা, এখন বিলুপ্তপ্রায় tape recorder এর মতই। ছোট ছোট দুটো পুলির মত বসানো থাকে দুপাশে, আর রেকর্ডিং ফিতা এক পুলি থেকে আরেক পুলিতে জড়াতে থাকে একটা electromagnatic head এর ওপর দিয়ে। সেই electromagnatic head তখন ফিতার ওপর তথ্য গেঁথে দিতে থাকে।

সলিড স্টেট মেমরি বোর্ড ব্ল্যাক বক্স

এবার দেখে নেই যে solid state memory board টেকনোলোজি কিভাবে কাজ করে, যা কিনা magnatic tape এর থেকে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য। magnatic tape এর ফিতা বা tape সব সময়ই নড়তে চড়তে থাকে অর্থাৎ এক পুলি থেকে অন্য পুলিতে সরতে থাকে | যার ফলে, দুর্ঘটনার সময় এটি ছিঁড়ে বা সরে যাবার সম্ভাবনা থাকে। solid state memory board পদ্ধতি এই ঝামেলা মুক্ত। এতে অনেকগুলো মেমরি চিপ পরপর বিশেষ বিন্যাসে সাজানো থাকে। মেমরি চিপ ব্যবহার করার ফলে এর মধ্যে moving part কিছু থাকেনা, ফলে কিছু খুলে বা সরে বা ছিঁড়ে যাবার সম্ভাবনা থাকেনা। মেমরি চিপ গুলোর stack টা রাখা থাকে রেকর্ডার এর ভেতরের crash survival memory unit (CSMU) নামের একটা সিলিন্ডার আকৃতির কম্পার্টমেন্ট এর মধ্যে। FDR এবং CVR এর সংগৃহীত তথ্য এসে জমা হতে থাকে এই মেমরি চিপ গুলোতে। এই মেমরি বোর্ড CVR থেকে প্রাপ্ত সর্বোচ্চ ২ ঘন্টার অডিও ডাটা এবং FDR থেকে প্রাপ্ত সর্বোচ্চ ২৫ ঘন্টার ফ্লাইট ডাটা ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন। FDR এর তথ্য যোগানোর জন্য বিমানের বিভিন্ন জায়গাতে অনেক রকমের সেন্সর লাগানো থাকে। এই সেন্সর গুলো বিমানের ত্বরণ, গতিবেগ, বাইরের তাপ-চাপ, ভেতরের তাপ-চাপ, বিমানের উচ্চতা, ফ্ল্যাপ সেটিং ইত্যাদি বহুরকমের প্যারামিটার মাপতে থাকে এবং পাঠাতে থাকে রেকর্ডার এ। যেখানে ম্যাগনেটিক টেপ রেকর্ডার মাত্র ১০০ রকমের প্যারামিটার মাপতে পারে, সেখানে সলিড স্টেট রেকর্ডার এইরকম ৭০০ র ও বেশি পর্যন্ত প্যারামিটার মাপতে পারে বিমানের আকারের ওপর নির্ভর করে। সেন্সর গুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলো প্রথমে সব চলে যায় flight data acquisition unit (FDAU) এ, যেটি রাখা থাকে বিমানের সামনের দিকে। তারপর FDAU এই তথ্যগুলো পাঠিয়ে দেয় ব্ল্যাক বক্স এ। তাই FDAU কে বলা হয় মিডল ম্যানেজার।

ব্ল্যাক বক্সের নাম “ব্ল্যাক” বক্স কেন?

ব্ল্যাক বক্স এর রং উজ্জল কমলা হওয়া সত্বেও একে “ব্ল্যাক” বক্স কেন বলে সেটা নিয়ে কয়েকটা মত আছে। আগে এই রেকর্ডারগুলোর রং হত কালো; তাই অনেকে বলেন যে এর থেকেই এই নামের উত্পত্তি। আবার কেউ কেউ বলেন, দুর্ঘটনার পর আগুনে পুড়ে এর রং কালো হয়ে যায় বলেই এরকম নামে একে ডাকা হয়। অনেকে আবার বলেন, দুর্ঘটনা, মৃত্যু এসব খারাপ ব্যাপারকে মাথায় রেখেই এরকম নাম দেয়া হয়েছে। নামের কারণ যাই হোকনা কেন, এর কাজ সেই একই। শেষ মুহূর্ত গুলোকে ধরে রাখা। আর এই শেষ মুহুর্তগুলোর তথ্য উদ্ধার করার জন্য একে খুঁজে পাওয়া খুবই জরুরি।

দুর্ঘটনার পর ব্ল্যাক বক্স খুঁজে পাওয়া নিশ্চিত করার জন্য একে টকটকে কমলা রঙ্গে রঞ্জিত করার পাশাপাশি আরো কিছু কারিগরী ফলানো হয়। যানবাহনের গায়ে বা হাইওয়ের পাশে রোডসাইন গুলোতে যেমন refelctive material লাগানো থাকে, তেমনি টেপ লাগানো থাকে ব্ল্যাক বক্স এর গায়ে। সবচেযে গুরুত্বপূর্ণ যে জিনিস লাগানো থাকে সেটা হলো underwater locator beacon। L3 communications লেখা সাদা রঙের সিলিন্ডার আকৃতির জিনিসটাই হলো underwater locator beacon। এটি আবার ব্ল্যাক বক্স বয়ে নিয়ে যাবার সুবিধার জন্য হাতল হিসাবেও কাজ করে। ছবিতে underwater locator beacon এর বাম দিকে সাদার মধ্যে কালো ফোঁটা ওয়ালা চোখের মত যে অংশটা দেখা যাচ্ছে, সেটি হলো submergence sensor নামের এক বিশেষ ধরনের সেন্সর। পানির সংস্পর্শে এলেই এই সেন্সরটা underwater locator beacon টাকে চালু করে দেয়। যে এটা চালু হয়, তারপর থেকে underwater locator beacon টা প্রতি সেকেন্ডে একবার করে ultrasonic শব্দের ঢেউ ছাড়তে শুরু করে আগামী ৩০ দিন পর্যন্ত। এমনকি ১৪০০০ ফুট পানির নিচে থেকেও এটি কাজ করতে সক্ষম। এর থেকে নির্গত শব্দ মানুষের কানে ধরা পরেনা ঠিকই, কিন্তু sonar বা acoustical locating যন্ত্রের দ্বারা এই শব্দ সনাক্ত করা যায়। ব্ল্যাক বক্স খুঁজে পাওয়ার পর চেষ্টা করা হয় আর কোনমতেই যেন এর রেকর্ডিং ডিভাইসগুলোর আর কোনো ক্ষতি না হয়। যেমন ভাবে পাওয়া যায়, চেষ্টা করা হয় যেন সেইভাবেই এটাকে পরীক্ষাগারে নিয়ে যাওয়া যায়। সেই কারণে, ব্ল্যাক বক্স পানি থেকে উদ্ধার করা হলে একে পানিভর্তি কন্টেইনারে চুবিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, যাতে একে যে পরিবেশে পাওয়া গেছে তা অক্ষুন্ন থাকে। পরীক্ষাগারে গেলে তখন বিশেষজ্ঞরা অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেন।

৬০ এর দশক থেকে ব্ল্যাক বক্স এ তথ্য ধরে রাখার জন্য magnatic tape ব্যবহার করা হত, যা এখনো বহুল ভাবে ব্যবহার হয়। কিন্তু airline company গুলো ৯০ এর দশক থেকেই ঝুঁকছিল solid state memory board টেকনোলোজির দিকে। অধুনা, magnatic tape ওয়ালা ব্ল্যাক বক্স আর তৈরী হয়না।

Leave a Comment