অ্যাপ তৈরি করে গুগল প্লে স্টোর থেকে আয় করার উপায়

বর্তমানে আমরা স্মার্টফোনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করার জন্য গুগল প্লে-স্টোর ব্যবহার করে থাকি। গুগল প্লে-স্টোর এমন একটি স্থান যেখানে আপনি যেকোন ধরনের মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যায়। তবে সম্প্রতি,  গুগল প্লে-স্টোর ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে।

এখন আপনিও গুগল প্লে-স্টোর থেকে টাকা আয় করতে পারবেন। আপনি যদি একজন অ্যাপ ডেভেলপার হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য গুগল প্লে-স্টোর থেকে টাকা ইনকাম করা খুভ সহজ হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন কোর্স এবং লার্নিং ফ্রিল্যান্সিং কোর্স এর কল্যানে অনেক অ্যাপ ডেভলপার তৈরি হচ্ছে।

সুতরাং আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি তাদের জন্য লিখা হয়েছে, যারা থেকে গুগল প্লে-স্টোর এর মাধ্যমে টাকা আয় করতে চান।

অ্যাপ তৈরির আগে যেসব বিষয় মাথায় রাখতে হবে?

অ্যাপের উদ্দেশ্যঃ অ্যাপ তৈরির ক্ষেত্রে সবার আগে আপনার অ্যাপ কোন তৈরির ধরনের হবে তার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।কিভাবে টাকা আয় করা যায় তা লক্ষ্য রেখে অ্যাপ তৈরি করবেন, তখনই অ্যাপের উদ্দেশ্য এমনিতেই উন্মোচন হবে। 

যখন উদ্দেশ্য উন্মোচন হবে তখন গ্রাহকদের এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সফটওয়্যারটি ডেভেলপমেন্ট করবেন। যখন আপনার ধারণা স্পষ্ট হবে তখন আপনি আপনার অ্যাপের একটি সঠিক উদ্দেশ্য পেয়ে যাবেন।

এই যেমন ধরুনঃ আপনি নিউজ অ্যাপ বানাতে পারেন, সেখানে অ্যাড দেখিয়ে টাকা আয় করতে পারবেন। বিভিন্ন টুলসের অ্যাপ যেমনঃ ছবি এডিট, ভিডিও এডিট, গেমস তৈরি করে বিক্রি করা কিংবা অ্যাড দেখিয়ে গুগল প্লে স্টোর থেকে আয় করতে পারবেন।

ব্যবহারকারী টার্গেটঃ যেকোনো অ্যাপ তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী কারা, সেই সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা রাখা প্রয়োজন।

  • যদি আপনি ব্যবসায়ের কাজের জন্য অ্যাপ তৈরি করে থাকেন তাহলে, আপনাকে এমন অ্যাপ তৈরি করতে হবে যা পরিপূর্ণ ব্যবসার কাজের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হবে।
  • আপনি যদি টাকা আয়ের জন্য কোন অ্যাপ তৈরি করে থাকেন তখন অবশ্যই আপনাকে আপনার টার্গেট অর্ডিয়েন্স কে হবে সেই সম্পর্কে নজর দিতে হবে।
  • আর কি হতে পারে তাদের চাহিদা?
  • মাসে কতটুকু অর্থ আপনি গুগল প্লে স্টোর থেকে আয় করতে পারবেন?

অন্যান্য প্রতিযোগিদের সাথে তুলনাঃ যখন আপনি কোন অ্যাপ তৈরি করবেন, তখন আশেপাশের প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের বা ডেভলপারের অ্যাপের দিকে নজর রাখতে হবে। অ্যাপ থেকে আয়ের ক্ষেত্রে, তারা কি ধরণের সুবিধা গ্রাহকদের দিয়ে থাকে তা অনুসরণ করতে হবে। প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের অ্যাপের নিত্য নতুন আপডেট সম্পর্কে খবর রাখতে হবে। 

মনিটাইজেশন

গুগল প্লে স্টোর থেকে আয়ের প্রধান কার্যকরী মাধ্যম হলো অ্যাড দ্বারা (অ্যাপ মনিটাইজেশন)। মূলত, অ্যাপের মধ্যে অ্যাড দেখিয়ে আয় করাকে অ্যাড মনিটাইজেশন বলা হয়। পপ-আপ, ব্যানার সহ বেশ কয়েক ধরনের অ্যাড সিস্টেম আছে যার মাধ্যমে অ্যাপ থেকে আয় করা সম্ভব। বেসিরভাগ “ফ্রি  অ্যাপ” এড বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে গুগল প্লে স্টোর থেকে আয় করে থাকে।

বিভিন্ন উপায়ে অ্যাপে এড  বা বিজ্ঞাপন দেখানো যেতে পারে। অ্যাপের মধ্যে ব্যানার এড দেখানো যেতে পারে যা ব্যবহারকারীর কোনো ধরনের সমস্যা করেনা। আবার চাইলে এড এর বিনিময়ে অ্যাপের কোনো অতিরিক্ত ফিচার অফার করতে পারেন, তাতে ব্যবহারকারীগণ নিজের ইচ্ছায় এড দেখতে চাইবে।

সুতরাং, অ্যাপে এড দেখিয়ে একাধিক উপায়ে আয় করা যেতে পারে। তবে আয়ের লক্ষ্যে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন দিয়ে অ্যাপ ভরিয়ে দিলে ব্যবহারকারী অ্যাপ ব্যবহারে অনিচ্ছা জাগতে করতে পারে, তাই খুব সাবধানতার সাথে অ্যাপে এড প্রদান করা উচিত।

অ্যাপে এড দেখানোর জন্য অনেক প্ল্যাটফর্ম আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো “গুগল এডমব”। গুগল এর সার্ভিস হওয়ায় অ্যাপটি দ্বারা এড পরিচালনায় কোনো ধরনের জটিলতা নেই প্লে স্টোরের অ্যাপগুলোতে। যে কেউ একটি “এডমব” একাউন্টের জন্য আবেদন করে নিজের অ্যাপ মনিটাইজ করার জন্য কাজ করতে পারে। 

পেমেন্ট

প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ Buy করা বর্তমানে অনেক সাধারণ একটি বিষয়। আপনি আপনার অ্যাপ নিয়ে যদি যথেষ্ট কনফিডেন্ট থাকেন, তাহলে আপনার অ্যাপটিকে পেইড অ্যাপ হিসেবে প্লে স্টোরে পাবলিশ করতে পারেন। তবে এইক্ষেত্রে আয়ের পথ এড মনিটাইজেশন এর মত সহজ নয়। আপনার অ্যাপ যদি ভালো না হয়, তাহলে কেউই অ্যাপ কিনতে চাইবেনা।

এছাড়া অ্যাপের ভিতর Purchase যুক্ত করেও কিন্তু ফ্রি অ্যাপ থেকেই আয় করা যায়। এইক্ষেত্রে অ্যাপ ডেভলপার এই পদ্ধতিতে আয়ের পথকে অধিক স্মার্ট বলে মনে করে থাকেন। অ্যাপের মোটামুটি ব্যবহারকারী সংখ্যা থাকলে  অ্যাপ এর ফিচার বা গেম এর আইটেম সেল করা যেতে পারে, যা অ্যাপ বিক্রির ওয়ান-টাইম রেভিনিউ থেকেও অনেক বেশি হতে পারে।

যেমন ধরুন, উদাহরণ হিসেবে পাবজি মোবাইল এর কথা উল্লেখ করা যাক। অ্যাপটি প্লে-স্টোর থেকে ফ্রিতে ডাউনলোড করা যায়, কিন্তু অ্যাপটিতে থাকা (In-app Purchase) এর মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৭বিলিয়ন ডলারের অধিক আয় করে নিয়েছে গেমটি। সুতরাং, আপনার অ্যাপ বা গেম যদি যথেষ্ট কাজের বান,ভালো হয়, তবে অ্যাপ থেকে বিভিন্ন ফিচার বা আইটেম টাকা দিয়ে কিনে নিতে  কেউ দ্বিধা বোধ করবেনা।

সাবস্ক্রিপশন

অ্যাপ থেকে আয়ের ক্ষেত্রে “সাবস্ক্রিপশন” অনেকটা জটিল একটি মাধ্যম। সাবস্ক্রিপশন বলতে মূলত মাসিক অথবা বার্ষিক নির্দিষ্ট ফি এর বিনিময়ে অ্যাপের বিভিন্ন ফিচার ব্যবহারের সিস্টেমকে বুঝানো হয়েছে। নেটফ্লিক্স, স্পটিফাই, ট্রুকলার,আমাজন প্রাইম, ডিসনি  ইত্যাদি বিভিন্ন অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্ম সাবস্ক্রিপশন এর মাধ্যমে বিশাল অংকের অর্থ আয় করে থাকে।

তবে মনে রাখবেন, ইউজারগণ ফিচারের বিনিময়ে নিয়মিত অর্থ প্রদান করে থাকে, সুতরাং প্রদত্ত ফিচারসগুলো যথেষ্ট কাজের না হলে সাবস্ক্রিপশন বিক্রি না ও হতে পারে। বিশেষ করে গেমের ক্ষেত্রে বর্তমানে সাবস্ক্রিপশন আয়ের জন্য একটি সাধারণ উপায়ে পরিণত হয়েছে।

স্পন্সরশিপ

স্পন্সরশিপ এর মাধ্যমেও অ্যাপ থেকে প্রচুর অর্থ আয় করা যায়। আপনার অ্যাপের আইডিয়া যদি ইউনিক হয়, তবে অ্যাপে স্পন্সরশিপ পেতে তেমন কোনো সমস্যাই পোহাতে হবেনা। প্রচুর কোম্পানি ভালো কিছুর সম্ভাবনাময় অ্যাপগুলোতে নিয়মিত স্পন্সরশিপ করতে থাকে। তবে সেক্ষেত্রে অ্যাপ থেকে আয় করতে আপনার অ্যাপের আইডিয়া অসাধারণ হওয়া অতীব জরুরি।

স্পন্সরশিপ এর মাধ্যমে অ্যাপ থেকে আয় করার  চিন্তা বাদ দিয়ে অ্যাপের উন্নতি করার কথা ভাবা উচিত। তবে, আপনার অ্যাপ এর আইডিয়া যথেষ্ট ইউনিক বা ইনোভেটিভ হলে স্পন্সরশিপ এর মাধ্যমে আয় করতে পারেন। 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অ্যাপ থেকে আয়ের একটি অসাধারণ উপায় হয়ে উটতে পারে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। অন্যান্য অ্যাপ, সার্ভিস কিংবা প্রোডাক্ট এড বা বিজ্ঞাপন করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে প্লে স্টোর থেকে আয় করা যেতে পারে।

অ্যামাজন থেকে শুরু করে দারাজ পর্যন্ত প্রতিটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুযোগ দিচ্ছে। সঠিকভাবে আপনার অ্যাপ দিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারলে গুগল প্লে স্টোর থেকে আয় করার অসাধারণ একটি উপায় হতে পারে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।

এইসকল বিষয় মাথায় রেখে আপনি  কাজে নেমে পড়তে পারেন।

Leave a Comment