পুরাতন কম্পিউটার কেনার আগে যা যা করণীয়

নতুন কম্পিউটার কেনার পাশাপাশি, ব্যবহৃত কম্পিউটার কেনা এখন আর অস্বাভাবিক কিছুই নয়। অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে পাওয়া যায় বলে পুরো বিশ্বেই এখন ব্যবহৃত কম্পিউটারের প্রচুর চাহিদা বিদ্যমান।

তবে ব্যবহৃত কম্পিউটার কিনতে হলে কিছু প্রধান বিষয় মাথায় রাখতে হয়। চলুন জেনে নেয়া যাক ৭টি উপায়, যার মাধ্যমে ব্যবহৃত কম্পিউটার কেনার ক্ষেত্রে আপনার খরচকৃত অর্থ অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে।

বিশ্বস্ত বা পরিচিত কারো থেকে কিনুন

কোনো কম্পিউটার বিক্রেতাই হোক কিংবা সাধারণ কেউ, চেষ্টা করুন পরিচিত কারো থেকেই ক্রয় করতে। কোনো বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবহৃত কম্পিউটার কিনলে ক্রয়কৃত কম্পিউটারে কোনো সমস্যা হলে আপনি তাদের দ্বারস্থ হতে পারবেন।

আর যদি কোনো ব্যক্তি থেকে ব্যবহৃত কম্পিউটার ক্রয় করতে চান, তবে এটা নিশ্চিন্ত হয়ে নিন যে তাদেরকে দরকারে পাওয়া যাবে কি না। তবে ব্যক্তির চেয়েও কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবহৃত পণ্য ক্রয় করা অধিক সুরক্ষিত। কেননা তারা কখনই চাইবেনা যাতে গ্রাহক মনে মনে তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানসমূহ সবসময় তাদের সম্মান এবং ইতিবাচকতা বজায় রাখতে বদ্ধ পরিকর।

নিজের প্রয়োজন বুঝুন

সব কম্পিউটার একই ধরনের হয়না। একেক ধরনের কম্পিউটার একেক ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য তৈরী। ধরুন, আপনি সাধারণত মাইক্রোসফট অফিস এর প্রোগ্রামগুলো ব্যবহার করে থাকেন। সেক্ষেত্রে অধিক দামের গেমিং কম্পিউটার আপনার কোনো কাজে আসবেনা। আবার ধরুন, আপনি কম্পিউটারে গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এর কাজ করতে চান। সেক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজন অনু্যায়ী কম্পিউটার বেছে নিতে হবে। নতুন হোক বা ব্যবহৃত কম্পিউটার কেনার আগে সবসময় একটু গবেষণা করা অতীব জরুরি, যে আপনার প্রয়োজন কতটুকু আর কোনটি আপনার সেই প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হবে।

পার্থক্য যাচাই করুন

ব্যবহৃত কম্পিউটারের মূল্য স্বাভাবিকভাবে একই রকম নতুন কম্পিউটারের তুলনায় কমই হবে- এটা আমাদের সকলেরই জানা। তবে যে কম্পিউটারটি আপনি কিনতে যাচ্ছেন, তার অস্বাভাবিক রকমের মূল্যহ্রাস সন্দেহজনক। কম্পিউটার কেনার আগে অবশ্যই ইন্টারনেট থেকে এর যথাযথ দাম জেনে নিন। এছাড়াও যার কাছ থেকে কিনছেন, তার থেকে জেনে নিতে ভুলবেন না যে সে কম্পিউটারটি কোথা থেকে আনা বা কেনা।

হার্ডওয়্যার কন্ডিশন

নতুন কম্পিউটার কেনার ক্ষেত্রে হার্ডওয়্যার এর কন্ডিশন নিয়ে তেমন ভাবতে হয়না। কারন নতুন জিনিস তো আর নষ্ট বা খারাপ হয়না। কিন্তু যখন পুরনো কোন পিসি বা ল্যাপটপ কিনতে হয় তখন অবশ্যই সেটার ইন্টারনাল এবং এক্সটারনালসহ সকল বিষয় দেখে নিতে হয়। সাধারনত মানুষ পুরনো কম্পিউটার  বিক্রি করে দুইটি কারনে যদি কম্পিউটারে কোনো সমস্যা থাকে তখন অথবা নতুন কম্পিউটার কেনার জন্য পুরনোটি  বিক্রি করে। এখন আপনি যখন পুরনো কম্পিউটার কিনতে যাবেন তখন হার্ডওয়্যার বর্তমানে কোন পরিস্থিতিতে আছে তা অবশ্যয় দেখে নিতে হবে।

বিশেষ করে মাদারবোর্ডের সবগুলো পার্টস ঠিক আছে কিনা তা দেখে নিতে হবে। অনেকসময় দেখা যায় র‍্যামে সমস্যা থাকে আবার যদি অনেক পুরনো হয়ে থাকলে তাহলে সেগুলো না নেওয়াই ভালো। হার্ডওয়্যার কার্যক্ষমতা  ঠিক না থাকলে কম্পিউটারের পারফরমেন্স নিয়ে অনেক সময় ঝামেলায় থাকতে হয়। মনে রাখবেন কখনই মার্কেটে পাওয়া যায়না এমন কোন পার্টস কিনতে যাবেন না। কারন কখনো যদি কোন পার্টস নষ্ট হয় তখন কিনতে গিয়ে ঝামেলায় পরবেন।

কনফিগারেশন

অনেকে পুরনো জিনিস কিনে কম দামে ভালো জিনিস পাওয়ার জন্য। উদাহরণস্বরূপ বর্তমান মার্কেটে একটি মাঝারি লেভেলের ল্যাপটপ কেনার জন্য আপনাকে ৬০ হাজার বা এর বেশিও খরচ করতে হবে। কিন্তু আপনি সেই একই ল্যাপটপ কারো ব্যাবহারকিত কিনতে গেলে ৫০ হাজারের মধ্যে পাবেন।তবে প্রতিটি কম্পিউটারের গুনাগুন নির্ভর করে সেটির কনফিগারেশনের উপরে। অর্থাৎ কম্পিউটারের কনফিগারেশন যত ভালো হবে ইউজার এক্সপেরিয়ান্স তত ভালো হবে।

বর্তমান সময়ে অনেক ভেরিয়েশনের ব্যাবহৃত কম্পিউটার হার্ডওয়্যার পাওয়া যায়। এদের মধ্যে স্পিড এবং কম্প্যাটিবিলিটি পারফরমেন্স হিসেব করে আপনাকে পুরনো কম্পিউটার কিনতে হবে। সাধারনত আপনার ইউজ করার প্রয়োজনীয়তার উপর পিসি বা ল্যাপটপের কনফিগারেশন নির্ভর করে। মনে রাখবেন সব কম্পিউটার একই ধরনের হয়না। একেক ধরনের কম্পিউটার একেক ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য তৈরী করা হয় ।

ধরুন, আপনি সাধারণত মাইক্রোসফট অফিস এর প্রোগ্রামগুলো ব্যবহার করতে চান সেক্ষেত্রে অধিক দামের গেমিং কম্পিউটার আপনার কোনো কাজে আসবেনা। আবার ধরুন, আপনি কম্পিউটারে গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, গেমিং বা ভিডিও এডিটিং জাতিয় কম্পিউটারের জন্য আপনাকে অবশ্যই হাই কনফিগারেশনের পিসি বা ল্যাপটপ নিতে হবে। নতুন কিংবা ব্যবহৃত, কম্পিউটার কেনার আগে সবসময় আগে একটু গবেষণা করার পর  আপনার প্রয়োজন কতটুকু আর কোনটি আপনার সেই প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হবে সেই হিসেব করে কম্পিউটারের কনফিগারেশন বাছাই করতে হবে।

কম্পিউটার পারফরমেন্স

নতুন আর বেশি দামি হার্ডওয়্যার হলেই যে কম্পিউটার খুব ফাস্ট হবে এটা ভাবা কিন্তু একদম উচিত নয়। আপনি যেকোন দোকান থেকে নতুন কম্পিউটার কিনবেন তখন  সেখানে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার কম্প্যাটিবিলিটি স্বাভাবিক পাবেন। কিন্তু যখন স্পেয়ার পার্টস কিনে নিজে পিসি সাজাবেন অথবা ব্যবহার করা কম্পিউটার কিনবেন তখন কম্প্যাটিবিলিটি নিয়ে অনেক সময় ঝামেলায় পরতে হয়। যেমন বর্তমানে সকল মাদারবোর্ড ডিডিআর 4 র‍্যাম সাপোর্ট করে। সেখানে আপনি ডিডিআর ৩ র‍্যাম ইউজ করতে পারবেন না। এখন স্পেয়ার পার্টস কেনার সময় যদি ডিডিআর ৪ মাদারবোর্ডের জন্য ডিডিআর 3 র‍্যাম কিনেন তাহলে কিন্তু কাজ হবে না। ঠিক তেমনি কম্পিউটারের পারফরমেন্স ভিত্তি করে তার হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার কম্প্যাটিবিলিটির উপর। 

পুরনো পিসি বা ল্যাপটপ কেনার সময় এই বিষয় অনেক বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে পুরনো পিসি বা ল্যাপটপ কেনার আগে অবশ্যই তা চালিয়ে দেখবেন। এতে কম্পিউটারের পারফরমেন্স সম্পর্কে ভালো এবং পরিস্কার ধারণা পাওয়া যাবেন। এছাড়া নতুন কোন পার্টস যেমন র‍্যাম, এসএসডি ও অন্যান্য পার্টস লাগিয়ে পারফরমেন্স বৃদ্ধি করা যাবে কি যাবেনা সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে।

ল্যাপটপ এর ক্ষেত্রে ব্যাটারি লাইফ চেক করুন

কেউ কেউ তাদের ল্যাপটপ এর ব্যাটারি ঠিকমত কাজ না করার দরূণ তাদের ল্যাপটপ বিক্রি করার সিদ্বান্ত নেন। ল্যাপটপের ব্যাটারি ঠিকমত কাজ করছে কিনা এই ব্যাপারিটি মাথায় রেখে ব্যবহৃত ল্যাপটপ কেনার আগে অবশ্যই এটি যাচাই করে নিবেন।সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় মানুষ ল্যাপটপ ব্যবহার করে। সুতরাং আপনি যে ব্যবহৃত ল্যাপটপটি ক্রয় করবেন, তা আপনাকে আশানুরূপ ব্যাটারি ব্যাকাপ দিতে পারবে কিনা,তা নিশ্চিত করা জরুরি।

নিজে চালিয়ে দেখুন

কম্পিউটার হোক বা অন্য যেকোনো ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী, কেনার আগে অবশ্যই একবার হলেও নিজে উক্ত পণ্যটি চালিয়ে দেখুন। মাত্র ৩০ মিনিট মত চালালেই আপনি যে পণ্যটি কিনতে যাচ্ছেন, তার সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা পেয়ে যাবেন।

রিফান্ড এর জন্য বলুন

আপনি যদি কোনো ব্যাক্তির কাছ থেকে কম্পিউটার ক্রয় করে থাকেন, তবে পরবর্তীতে অর্থ ফেরত চেয়ে পণ্যটি ফিরিয়ে দেয়ার চিন্তা করা বোকামি। আপনি যদি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবহৃত কম্পিউটার কিনে থাকেন, তবে সেই প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্রয়কৃত পণ্য রিপ্লেস কিংবা রিফান্ড এর সুবিধা দিচ্ছে কিনা তা দেখে নিবেন।

অভিজ্ঞদের সাহায্য নিন

আমাদের মধ্যে কমবেশি সবারই এমন (অন্তত) একজন বন্ধু থাকে, যে কিনা তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে অভিজ্ঞ হয়ে থাকে। ব্যবহৃত কম্পিউটার কেনার সময় অভিজ্ঞ বন্ধুর সাহায্য নেয়া অনেক কার্যকর। অতএব, ব্যবহৃত কম্পিউটার কেনার সময় আপনার অভিজ্ঞ বন্ধুর সাহায্য নিতেই পারেন।

Leave a Comment