শক্তিশালী প্রসেসর ও চার্জিং সিস্টেম নিয়ে এলো ‘ওয়ানপ্লাস ১০টি’

শক্তিশালী প্রসেসর ও চার্জিং সিস্টেম নিয়ে এলো ‘ওয়ানপ্লাস ১০টি’…

ওয়ানপ্লাস ১০টি নামে নতুন একটি ফোন নিয়ে এসেছে ওয়ানপ্লাস যা তাদের সবচেয়ে পাওয়ারফুল ফোন। ওয়ানপ্লাস ১০ এর চেয়ে দাম ও কিছু স্পেসিফিকেশনে কমতি থাকলেও অন্যান্য বিষয়ে অনেক  এগিয়ে থাকবে ওয়ানপ্লাস ১০টি। চলুন জেনে নেওয়া যাক ওয়ানপ্লাস ১০টি সম্পর্কে বিস্তারিত।

ডিসপ্লে

ফোনটি ৬.৭ইঞ্চির ওলেড ডিসপ্লে ব্যবহৃত যার রেজ্যুলেশন ১০৮০x২৪১২ পিক্সেল। ১২০হার্জ রিফ্রেশ রেটের পাশাপাশি এই ডিসপ্লে ১০বিট কালার ও এইচডিআর১০+ পর্যন্ত সাপোর্ট করে। ওয়ানপ্লাস ১০ প্রো এর মত ৬.৭ইঞ্চির ডিসপ্লে থাকলেও এলটিপিও২ ডিসপ্লের পরিবর্তে স্ট্যান্ডার্ড ওলেড ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে।

পারফরম্যান্স

ওয়ানপ্লাস ১০ প্রো এর চেয়ে আপগ্রেডেড চিপসেট রয়েছে ওয়ানপ্লাস ১০টি ফোনটিতে। নতুন স্ন্যাপড্রাগন ৮+ জেন ১ চিপসেট থাকছে ওয়ানপ্লাস ১০টি ফোনটিতে। সর্বোচ্চ ১৬জিবি র‍্যাম ও ২৫৬জিবি ইউএফএস৩.১ স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাবে ফোনটি। আমেরিকার বাজারে একাধিক ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেলেও ভারতের বাজারে শুধুমাত্র ১২জিবি ও ২৫৬জিবি মডেল পাওয়া যাবে।

অদ্ভুত একটি বিষয় হলো ওয়ানপ্লাস ১০টি ফোনটিতে ওয়ানপ্লাস এর সিগনেচার এলার্ট স্লাইডার থাকছেনা। আবার হ্যাসেলব্লেড ব্র‍্যান্ডিং ক্যামেরা ফিচারগুলো এই ফোনে মিসিং। ওয়ানপ্লাস ১০টি ফোনটিতে থাকা ৩ডি কুলিং সিস্টেম।

ক্যামেরা

দাম কম রাখতে ১০ প্রো এর চেয়ে ১০টি এর ক্যামেরা সেকশনে অনেক কাটছাঁট করা হয়েছে। ওয়ানপ্লাস ১০ প্রো তে থাকা আলট্রাওয়াইড ক্যামেরা ও ৩এক্স টেলিফটো ক্যামেরা বাদ পড়েছে নতুন ফোনে। এখানে, ৫০ মেগাপিক্সেল মেইন সেন্সর, ৮ মেগাপিক্সেল আলট্রাওয়াইড ও ২ মেগাপিক্সেল ম্যাক্রো ক্যামেরা রয়েছে।

অর্থাৎ, ওয়ানপ্লাস ১০ প্রো তে থাকা সনি আইএমএক্স৭৬৬ সেন্সরের ৫০মেগাপিক্সেল মেইন সেন্সর এই ফোনটিতেও রয়েছে যা একটি অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন সাপোর্টেড লেন্স। ফোনের ফ্রন্টে স্থান পেয়েছে ১৬মেগাপিক্সেল সেল্ফি ক্যামেরা।

ব্যাটারি

৪,৮০০মিলিএম্প এর ব্যাটারি রয়েছে ওয়ানপ্লাস ১০টি ফোনটিতে। তবে এখানে মূল আকর্ষণ হচ্ছে ১৫০ওয়াট এর SuperVOOC চার্জিং সাপোর্ট। আরো মজার ব্যাপার হচ্ছে ফোনের বক্সেই ১৬০ওয়াট পাওয়ার এডাপ্টার পাওয়া যাবে যা এর সাপোর্টেড রেঞ্জ থেকেও বেশি। ধারণা করা হচ্ছে রিয়েলমি জিটি নিও৩ ১৫০ওয়াট এডিশনে থাকা একই চার্জার এটি। তবে অনেক দেশে সীমাবদ্ধতা থাকার কারণে সর্বোচ্চ চার্জিং স্পিড ১২৫ওয়াট থাকবে।

ওয়ানপ্লাস ব্যাটারি হেলথ ইঞ্জিন নামে একটি নতুন ফিচার নিয়ে এসেছে যা দীর্ঘসময় ব্যবহারে ব্যাটারি সেল এর ওয়্যার কমে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে। ১৬০০টি চার্জিং সাইকেলের পরেও ৮০% ব্যাটারি হেলথ ধরে রাখতে পারবে ফোনটির ব্যাটারি।

ওয়ানপ্লাস ফোনের দাম জানুন

মুনস্টোন ব্ল্যাক ও জেড গ্রিন কালারে পাওয়া যাবে ওয়ানপ্লাস ১০টি। ফোনটির ৮/১২৮জিবি বেস ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যাবে ৬৯৯ইউরো দামে। ১২/২৫৬জিবি ভ্যারিয়েন্ট এর দাম ৭৯৯ইউরো। যুক্তরাষ্ট্রে ৬৪৯ ডলারে পাওয়া যাবে ৮/১২৮ জিবি ভ্যারিয়েন্ট ও ৭৪৯ ডলার গুণতে হবে ১২/২৫৬ জিবি ভ্যারিয়েন্ট এর জন্য।

একনজরে ওয়ানপ্লাস ১০টি

  • ডিসপ্লেঃ ৬.৭ইঞ্চি
  • প্রসেসরঃ স্ন্যাপড্রাগন ৮+ জেন ১
  • র‍্যামঃ ৮জিবি / ১২জিবি / ১৬জিবি
  • স্টোরেজঃ ১২৮জিবি / ২৫৬জিবি
  • মেইন ক্যামেরাঃ ৫০মেগাপিক্সেল ট্রিপল ক্যামেরা
  • ফ্রন্ট ক্যামেরাঃ ১৬মেগাপিক্সেল
  • ব্যাটারিঃ ৪,৮০০মিলিএম্প
  • চার্জিংঃ ১৫০ওয়াট

OnePlus 10T: ভারতে বিক্রি শুরু হয়েছে

ওয়ানপ্লাস ১০টি (OnePlus 10T) ফোনের। গত ৩ অগস্ট গ্লোবাল মার্কেটের পাশাপাশি এই ফোন (OnePlus) লঞ্চ হয়েছিল ভারতে। বিক্রি শুরু হয়েছে ৬ অগস্ট দুপুর ১২টা থেকে। ই-কমার্স সংস্থা অ্যামাজনের (Amazon India) ওয়েবসাইট থেকে এই ফোন কেনা যাবে। ৪৯,৯৯৯ টাকায় ভারতে লঞ্চ হয়েছে ওয়ানপ্লাসের এই ফ্ল্যাগশিপ ফোন। তবে আপাতত অ্যামাজনে ফ্ল্যাট ৫০০০ টাকা ছাড় পাবেন ক্রেতারা। শুধু ফোন কিনতে হবে আইসিআইসিআই বা এসবিআই- এর কার্ডে। কারণ অ্যামাজনের তরফে আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের ডেবিট কার্ড, ক্রেডট কার্ড এবং ইএমআই ট্রানজাকশনের ক্ষেত্রে ইনস্ট্যান্ট ৫০০০ টাকা ব্যাঙ্ক অফার চালু করেছে। এই একই অফার প্রযোজ্য রয়েছে এসবিআইয়ের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড এবং ইএমআই ট্রানজাকশনের ক্ষেত্রেও। এর পাশাপাশি ক্রেতারা যদি তাদের অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস ডিভাইস ওয়ানপ্লাসের নিজস্ব সাইট এবং ওয়ানপ্লাস স্টোর অ্যাপ ও অ্যামাজনে এক্সচেঞ্জ করেন তাহলেও ৩০০০ টাকা ছাড় পাবেন।

আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে ওয়ানপ্লাস ১০টি? আপনারা আপনাদের মতামত জানান কমেন্ট সেকশনে ফোনটি সম্পর্কে।

ওয়ানপ্লাস ১০টি বনাম ওয়ানপ্লাস ১০টি প্রো

OnePlus 10T ৩রা আগস্ট ভারত সহ বিশ্ববাজারে আত্মপ্রকাশ করেছে এটি কোয়ালকমের লেটেস্ট স্ন্যাপড্রাগন ৮+ জেন ১ প্রসেসর এবং ১৫০ওয়াট সুপারভোক এন্ডিওরেন্স এডিশন ফাস্ট ওয়্যারড চার্জিং টেকনোলজির সাপোর্ট সহ এসেছে, যা সেই সকল গ্ৰাহক তথা গেমারদের অধিক আকৃষ্ট করবে, যারা শক্তিশালী চিপসেট ও ফাস্ট চার্জিংয়ের মতো বৈশিষ্ট্যের ফোন খুঁজছেন। জানিয়ে রাখি, সদ্য আগত এই ফোনটি মূলত গত ৫ই এপ্রিল লঞ্চ হওয়া OnePlus 10 Pro মডেলের সস্তা সংস্করণ হিসাবে এসেছে। এরপরও উভয় ফোনেই – ৬.৭ ইঞ্চির ফ্লুইড অ্যামোলেড ডিসপ্লে প্যানেল, লেটেস্ট কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন এসওসি, ২৫৬ জিবি পর্যন্ত ইন্টারনাল স্টোরেজ, অ্যান্ড্রয়েড ১২ ভিত্তিক কাস্টম ওএস, ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ এবং ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর বর্তমান। তাহলে Pro মডেলে কি বিশেষ কিছুই নেই? আসুন দেখে নেওয়া যাক…

ডিসপ্লে

ডুয়েল-সিমের (ন্যানো) ওয়ানপ্লাস ১০টি স্মার্টফোনে ৬.৭ ইঞ্চির ফুল এইচডি প্লাস (১,০৮০x২,৪১২ পিক্সেল) ফ্লুইড অ্যামোলেড ডিসপ্লে রয়েছে, যা লো-টেম্পারেচার পলিক্রিস্টালাইন অক্সাইড (LTPO) প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এই ডিসপ্লেটি কর্নিং গরিলা গ্লাস ৫ ডাটা সুরক্ষিত এবং ১২০ হার্টজ পর্যন্ত রিফ্রেশ রেট, এসআরজিবি (sRGB) কালার গ্যামেট, ১০-বিট কালার ডেপ্থ এবং এইচডিআর১০+ টেকনোলজি সাপোর্ট করে। নিরাপত্তার জন্য, এতে একটি ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর এবং ফেস আনলক ফিচারও মিলবে।

ডুয়েল সিমের ওয়ানপ্লাস ১০ প্রো ফোনে দেখা যাবে গরিলা গ্লাস ভিক্টাস প্রোটেকশন সহ ৬.৭ ইঞ্চি কোয়াড এইচডি প্লাস (৩,২১৬ x ১,৪৪০ পিক্সেল) এলটিপিও ২.০ ফ্লুইড অ্যামোলেড ডিসপ্লে। এই ডিসপ্লে, ১২০ হার্টজ পর্যন্ত অ্যাডপ্টিভ রিফ্রেশ রেট (১ হার্টজ- ১২০ হার্টজ), ৯২.৭% স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও ও ১০ বিট কালার ডেপ্থ অফার করে। তদুপরি, সিকিউরিটির জন্য এতে ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর উপস্থিত।

প্রসেসর, অপারেটিং সিস্টেম, র‍্যাম, স্টোরেজ

অভ্যন্তরীণ স্পেসিফিকেশনের কথা বললে, ওয়ানপ্লাস ১০টি কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮ প্লাস জেন ১ অক্টা কোর প্রসেসর সহ এসেছে। এটি অ্যান্ড্রয়েড ১২ ভিত্তিক অক্সিজেনওএস ১২.১ (OxygenOS 12.1) কাস্টম স্কিনে রান করে। স্টোরেজ ডিভাইসে হিসাবে ১৬ জিবি LPDDR5 র‍্যাম এবং ২৫৬ জিবি পর্যন্ত UFS 3.1 ডুয়েল-লেন রোম বর্তমানে।

ফাস্ট পারফরম্যান্সের জন্য, ওয়ানপ্লাস ১০ প্রো ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮ জেন ১ প্রসেসর। এটি অ্যান্ড্রয়েড ১২ ভিত্তিক অক্সিজেন ওএস ১২ (OxygenOS 12) ইউজার ইন্টারফেস দ্বারা চালিত। আর, ডিভাইসটি ১২ জিবি পর্যন্ত LPDDR5 র‌্যাম ও ২৫৬ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ UFS 3.1 সহ এসেছে।

ব্যাটারি

পাওয়ার ব্যাকআপের জন্য, ওয়ানপ্লাস ১০টি ফোনে ৪,৮০০ এমএএইচ ক্যাপাসিটির ডুয়েল-সেল ব্যাটারি আছে, যা ১৫০ ওয়াট সুপারভোক এন্ডিওরেন্স এডিশন ওয়্যার্ড চার্জিং সাপোর্ট করে। ফোনটির রিটেইল বক্সে একটি ১৬০ ওয়াট সুপারভোক পাওয়ার অ্যাডাপ্টার দেওয়া হয়েছে। এই নতুন ওয়্যার্ড চার্জিং প্রযুক্তিটি মাত্র ১৯ মিনিটে ডিভাইসকে ফুল চার্জ করতে সক্ষম, বলে দাবি করেছে ওয়ানপ্লাস।

ব্যাটারির কথা বললে, ওয়ানপ্লাস ১০ প্রো ফোনে ৫,০০০ এমএএইচ ক্যাপাসিটির ডুয়েল সেল ব্যাটারি রয়েছে, যা ৮০ ওয়াট সুপারভোক এবং ৫০ ওয়াট এয়ারভোক ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তির সমর্থন সহ এসেছে। এই ফোনে রিভার্স ওয়্যারলেস চার্জিংও সাপোর্ট করে। সংস্থার দাবি অনুসারে, সুপারভুক টেকনোলজি মাত্র ৩২ মিনিটে ফোনকে ফুল চার্জ করে দেবে। আবার এয়ারভুকের সাহায্যে ৪৭ মিনিটে ফোনটি ১০০% চার্জ হবে।

Leave a Comment