ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য বেসিক কম্পিউটার শেখা কতটা জরুরী?

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য বেসিক কম্পিউটার শেখা কতটা জরুরী?…

বর্তমান যুগ হলো তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে কম্পিউটারের ব্যবহার প্রায় সর্বক্ষেত্রেই ছড়ানো-ছিটানো। আর এই তথ্যপ্রযুক্তির বদৌলতে কম্পিউটারের মাধ্যমে ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিং করে অর্থ উপার্জন করে স্বনির্ভরও হচ্ছে অনেকে। তাই আপনার ও যদি এরকম ঘরে বসে অর্থ উপার্জনের আগ্রহ থেকে থাকে এবং আপনিও যদি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে নিজেকে তালিকাভুক্ত করতে চান, তবে আপনাকেও কম্পিউটার ব্যবহারে পারদর্শী হতে হবে। আপনাকে আপাদত বেসিক কম্পিউটার জ্ঞান আয়ত্ত্ব করতে হবে, কম্পিউটারের বিভিন্ন ট্যুলসের ব্যবহার সম্পর্কে জানতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য বেসিক কম্পিউটার শেখা কতটা জরুরী? জানার জন্য পড়ে নিন আমদের নিচের পোষ্টটি…

ডকুমেন্ট তৈরী করা

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে চাইলে প্রথমেই সেখানে আপনাকে একটি সিভি তথা বায়োডেটা প্রদান করতে হবে৷ যেকোনো একটি নির্দিষ্ট প্রজেক্টে বিডিং করার পর আপনার কাঙ্ক্ষিত কাজটি আপনি পাবেন কি না সেটিও কিন্তু অনেকক্ষেত্রে আপনার সিভির ওপরই নির্ভর করে। তাই বুঝতেই পারছেন, একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনার একটি তথ্যবহুল এবং সুন্দর সিভি থাকা কতটা জরুরি। আর আপনার পছন্দসই সুন্দর একটি সিভি আপনি মাইক্রোসফট ওয়ার্ড অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে খুব সহজেই তৈরী করে নিতে পারেন। এখানে আপনি ফ্রি অনেক টেম্পলেট পাবেন, যেগুলো ব্যবহার করেও আপনার সিভি টি তৈরী করে ফেলতে পারেন।

সিভি তৈরী করতেই কি শুধু মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এর কাজ জানা প্রয়োজন? উত্তরটি অবশ্যই না। বরং মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ব্যবহার করে আপনি আবেদনপত্র তৈরী, ডকুমেন্ট তৈরী থেকে শুরু করে ব্যানার, লিফলেট ও প্রস্তুত করতে পারবেন। তাই এটা বলার আর অপেক্ষা রাখে নাহ যে, একজন ফ্রিল্যান্সারের জন্য মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এর ব্যবহার জানা কত জরুরি। আপনাকে বিভিন্ন সময় কোনো একটি কাজের জন্য আবেদন করার প্রয়োজন পড়তে পারে, কিংবা ডক ফাইল তৈরী করা লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনি প্রয়োজনমতো শব্দ ছোট–বড় করে, বিভিন্ন ফ্রন্টে নিয়ে যেকোনো একটি ডকুমেন্ট প্যারাগ্রাফ আকারে খুব সহজেই প্রস্তুত করে ফেলতে পারেন।

কম্পিউটারের যাবতীয় সমস্যার সমাধান করা

একজন ফ্রিল্যান্সারের সার্বক্ষণিক কাজই কিন্তু কম্পিউটার কেন্দ্রিক। অর্থাৎ কোনো প্রজেক্টের জন্য বিড করা থেকে শুরু করে প্রজেক্ট টি তৈরী করে ক্লায়েন্টের নিকট জমা দেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটাই কিন্তু কম্পিউটার নির্ভর। এক্ষেত্রে কাজটি সম্পূর্ণ করার পুরো মাধ্যমই হলো কম্পিউটার।

কারণ, আপনার এই কম্পিউটারে যদি কোনো ধরনের সমস্যা হয় তবে কিন্তু আপনার কাজটি স্থগিত হয়ে যাবে। কিংবা কাজটি আপনি সঠিক সময়ে ক্লায়েন্টের নিকট প্রদান করতে পারবেন না। যা আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যেহেতু যেকোনো ধরনের প্রজেক্টেই ক্লায়েন্ট সন্তুষ্টি প্রধান বিবেচ্য বিষয়, সেক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট যদি সঠিক সময়ে কোনো একটি প্রজেক্ট না পায় তবে পরবর্তীতে আপনাকে দিয়ে কাজ করানোর সম্ভাবনা কিন্তু কমে যাবে।

তাই, এক্ষেত্রে আপনার কম্পিউটারের ব্যসিক হার্ডওয়্যার সম্পর্কে টুকটাক ধারণা থাকা জরুরি। অর্থাৎ কম্পিউটারের টুকটাক পার্টসে সমস্যা কিংবা অন্যান্য ব্যাসিক সমস্যার সমাধান যেন আপনিই দিতে পারেন। কারণ এর ফলে আপনাকে কম্পিউটারের খুটিনাটি কোনো সমস্যার জন্য কম্পিউটার সার্ভিসিং সেন্টারে নিয়ে সময় এবং অর্থ অপচয় করা লাগবে নাহ। এছাড়াও আপনাকে কম্পিউটারটির প্রতি যত্নশীল হতে হবে। আপনার কম্পিউটারটির সিপিউ, মাউস, মনিটর, কি-বোর্ড ইত্যাদিকে ধূলা-বালি মুক্ত রাখতে হবে।

টাইপিং করার দক্ষতা

কম্পিউটারে টাইপিং সম্পর্কে একজন ফ্রিল্যান্সারের মোটামুটিরকম দক্ষতা থাকা জরুরী। বিভিন্ন সময়ে আপনাকে ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগ করার প্রয়োজন পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে ম্যাসেজের মাধ্যমে ক্লায়েন্ট কে ঐ প্রজেক্ট সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য কিংবা অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো লাগতে পারে। দেখা যায় কোনো একটি কাজের জন্য বিভিন্ন সময় ইমেইল কিংবা আবেদন পত্র  প্রেরণ করতে হয়, সেক্ষেত্রে নির্ভূলভাবে দ্রুত টাইপিং করার দক্ষতা থাকাটা অতীব জরুরী।

স্বাভাবিকভাবেই আমরা মোবাইলে খুব দ্রুত টাইপ করতে পারলেও কম্পিউটারে খুব দ্রুত টাইপ করতে পারি নাহ। এক্ষেত্রে আমরা প্রথমেই যে ভুলটা করি তা হলো কি-বোর্ড এ হাতের পজিশনটা ঠিকঠাক নিয়ম অনুযায়ী রাখি নাহ। এক্ষেত্রে আপনি কোনো কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কিংবা অনলাইনে এ সম্পর্কিত টিউটোরিয়াল দেখে নিতে পারেন। এছাড়াও আপনি বিভিন্ন শর্টকাট ব্যবহার করেও দ্রুত কোনো কিছু টাইপ করতে পারবেন। অর্থাৎ আপনি বিভিন্ন কি-বোর্ড শর্টকাট কোড এবং কৌশল গুলো ব্যবহার করে আপনার টাইপিং এ দ্রুততা আনতে পারেন। সর্বোপরি টাইপিং এ দক্ষ হতে হলে বেশি বেশি টাইপ করতে হবে। আপনি যত বেশি টাইপিং করার অনুশীলন করবেন, তত আপনার টাইপিং দ্রুত হবে। এছাড়াও আপনি ভাল টাইপিং দক্ষতা আনলে ডেটা এন্ট্রি কিংবা কন্টেন্ট রাইটিং এর মতো কাজ ও করতে পারেন। তাই যথাসম্ভব চেষ্টা করুন যেকোনো কিছু বাংলা এবং ইংরেজীতে খুব দ্রুত ও নির্ভুলভাবে টাইপিং দক্ষতা অর্জন করার।

প্রেজেন্টেশন তৈরী করা

বিভিন্ন সময়ে নানান প্রজেক্টের জন্য একজন ফ্রিল্যান্সারকে প্রেজেন্টেশন তৈরী করতে হয়। অর্থাৎ আপনি যে প্রজেক্টে কাজ করছেন, সেই প্রজেক্টকে ক্লায়েন্টের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী ডিসপ্লে তথা স্লাইড হিসেবে উপস্থাপন করার প্রয়োজন হতে পারে। আপনি ঐ প্রজেক্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কিভাবে করলেন কিংবা আপনার তৈরীকৃত প্রজেক্টটির ব্যবহার, গুরুত্ব সুন্দরভাবে উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা যায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে। আর আপনার এই প্রেজেন্টেশনটি তৈরী করার জন্য মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।

মূলত প্রেজেন্টেশন তৈরীর ক্ষেত্রে মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট বহুল ব্যবহ্রত এবং সর্বজন সমাদৃত। এছাড়াও গুগল স্লাইড, ক্যানভা, অনলি অফিস ইত্যাদি সফটওয়্যার ব্যবহার করেও আপনি প্রেজেন্টেশন তৈরী করতে পারেন। তবে, আপনার শুধু পাওয়ার পয়েন্ট সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকলেই আপনি খুবই কমসময়ের মধ্যে সুন্দর একটি প্রেজেন্টেশন তৈরী করে নিতে পারেন।

সুন্দর, তথ্যবহুল এবং আকর্ষণীয়ভাবে একটি প্রেজেন্টেশন তৈরী করার জন্য আপনাকে পাওয়ার পয়েন্টের খুটিনাটি বিষয় সম্পর্কে দক্ষ হতে হবে। এজন্য আপনাকে পাওয়ার পয়েন্টের বিভিন্ন ট্যুলস যেমন, টাইটেল বার, মেন্যু বার, স্ট্যান্ডার্ড ট্যুল বার, ফরমেটিং ট্যুলবার, আউট লাইন প্যান ও ড্রয়িং ট্যুলবার সহ বিভিন্ন বিষয় নখদর্পনে রাখতে হবে।

অন্যান্য কাজে দক্ষতা

ক্ষেত্র বিশেষ একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনার বিভিন্ন রকম কম্পিউটার স্কিলস এর প্রয়োজন হতে পারে। যেমন, কোনো হিসাব-নিকাশের তথ্য সংরক্ষণের জন্য মাইক্রোসফট এক্সেল ব্যবহারে দক্ষতা প্রয়োজন। এছাড়াও এই স্প্রেডশীট ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি আপনার প্রজেক্টের সময়সূচী, কিংবা আপনার পেমেন্টের হিসাব ইত্যাদি টুকে রাখতে পারবেন। আর আপনি যদি কম্পিউটার অপারেটিং অর্থাৎ ডেটা এন্ট্রির কাজ করতে চান তবে মাইক্রোসফট এক্সেলের খুঁটিনাটি ব্যবহার আপনার নখদর্পনে রাখতে হবে।

এছাড়াও আপনার প্রজেক্টের জন্য বিভিন্ন তথ্য অনুসন্ধান করার প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ডেটা কালেক্ট তথা তথ্য সংগ্রহ করা লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনাকে বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন যেমন, গুগল, ইয়াহু, বিং ইত্যাদিতে তথ্য অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে পারদর্শী হতে হবে। আর বিভিন্ন নির্দিষ্ট কাজের জন্য নির্দিষ্ট কিছু সফটওয়্যার ব্যবহারে অবশ্যই পারদর্শী হতে হবে। এই ব্যাপারটি মূলত আপনার কাজের ধরনের উপর নির্ভর করছে।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝতেই পারছেন একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনার ব্যাসিক কম্পিউটার জ্ঞান থাকা কতটা জরুরী। প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে উপরোক্ত নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন কম্পিউটার ট্যুলসের যথাযথ ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করুন। পর্যাপ্ত দক্ষতা অর্জন করে যেকোনো ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে ঝামেলাহীনভাবে কাজ শুরু করুন। সর্বোপরি ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে নিজের, পরিবারের এবং দেশের উন্নতিতে ভূমিকা রাখুন।

Leave a Comment