সেরা ফ্রি ক্লাউড স্টোরেজ সার্ভিস

বর্তমান সময়টা হচ্ছে ক্লাউড কম্পিউটিং এর যুগ। সবকিছুই এখন ক্লাউডের উপর নির্ভর হয়ে যাচ্ছে। এরই রেশ ধরে রাখতে মানুষ বর্তমানে ফাইল সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে ক্লাউড স্টোরেজকে প্রধান্য দিচ্ছে। নির্ভরযোগ্যতা, কম খরচ ও যে কোন স্থান থেকে যে কোন সময় এক্সেস করা যায় বলে বর্তমানে ক্লাউড স্টোরেজ সেবাগুলো জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

এতে ফি দিয়ে যেমন এক্সট্রা সার্ভিস পাবেন ঠিক তেমনি ফ্রি তে পারসোনাল ব্যাবহারের জন্য প্রায় সব কোম্পানিই নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্লাউড স্টোরেজ দিচ্ছে। তবে ডজন ডজন  ক্লাউড স্টোরেজ সার্ভিসের ভিড়ে আপনি কোনটিই বাছাই করবেন? চলুন জেনে নেয়া যাক জনপ্রিয় কিছু ক্লাউড স্টোরেজের সার্ভিস সম্পর্কেঃ

গুগল ড্রাইভ (Google Drive)

গুগল ড্রাইভ ২০১২ সালে  ২৪শে এপ্রিল লঞ্চ করা হয়। আপনি যদি গুগলের বিভিন্ন সার্ভিস নিয়মিত ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে এটাই হবে আপনার জন্য বেস্ট অপশন। তাছাড়া স্টক এন্ড্রয়েডে আপনি ডিফল্টভাবে  ক্লাউড স্টোরেজ ড্রাইভ হিসেবেই “গুগল ড্রাইভ” পাচ্ছেন। গুগল ড্রাইভ সেবাটি উইন্ডোজ, আইওএস, ম্যাক ওএস এবং ডেস্কটপ অ্যাপ এর মাধ্যমেও ব্যবহার করা যায়। এটার ওয়েব ভার্সনও যথেষ্ট ভালো ইউজার এক্সপেরিয়েন্স দেয়। আপনি এতে নতুন বাবহারকারি হিসেবে লগইন করলেই ফ্রি তে ১৫ জিবি ক্লাউড স্টোরেজ পাবেন।আপনি  চাইলে ফি দিয়ে  বিভিন্ন প্যাকেজের মাধ্যমে আপনার স্টোরেজ ইচ্ছামতো বাড়াতেও পারবেন।

ভালো দিকগুলোঃ

  • সকল গুগল সার্ভিসের সাথে কাজ করে।
  • ব্যবহার করা অনেক সহজ।
  • ফ্রি ১৫ জিবি স্টোরেজ।
  • প্রিমিয়াম প্ল্যানের মূল্য কম।

খারাপ দিকগুলোঃ

  • রেফারেলের মাধ্যমে ফ্রি স্পেস বাড়ানো যায় না।
  • ড্র্যাগ এন্ড ড্রপ ফাইল আপলোড শুধুমাত্র গুগল ক্রোম ব্রাউজারে জন্য রয়েছে।

মেগা (Mega)

মেগা একটি নিউজিল্যান্ড ভিত্তিক ক্লাউড স্টোরেজ কোম্পানী। এটি ২০১৩ সালে চালু করা হয়। অনেকেই এটি চিনেন না কেননা এটি তেমন জনপ্রিয় না। মেগা ৫০ জিবি ফ্রি ইউজার স্টোরেজ দিয়ে থাকে। মেগা আপনার ফাইলের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। এটি ফাইল আপলোড, ডাউনলোডের ক্ষেত্রে এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন টেকনোলজী ব্যবহার করে, যার ফলে আপনার ফাইল আপনি ছাড়া কেউই দেখতে পারবে না। এমনকি মেগার ডেভেলপারেরাও না।

ভালো দিকগুলোঃ

  • ৫০ জিবি ফ্রি স্টোরেজ সুবিধা।
  • এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ফাইলের নিরাপত্তা।
  • সকল ডিভাইস ও মোবাইলের জন্য ক্লায়েন্ট রয়েছে।
  • কম মূল্যে আপগ্রেড করা
  • অনেকগুলো আপগ্রেড প্ল্যান।

খারাপ দিকগুলোঃ

  • ফ্রি স্পেস আর বাড়ানোর কোন সুযোগ নেই।
  • ড্র্যাগ এন্ড ড্রপের মাধ্যমে আপলোডের অপশন নেই।

ওয়ানড্রাইভ (OneDrive)

মাইক্রোসফট এর ফ্যান হলে আপনার এটা  ট্রাই করা আবশ্যক। মাইক্রোসফটের এই ক্লাউড স্টোরেজ সার্ভিস উইন্ডোজ পিসি ও কিছু সংখ্যক মোবাইল ফোনে ডিফল্ট ক্লাউড ড্রাইভ হিসেবে পাওয়া যায়। ডেস্কটপ থেকে খুব সহজেই ফাইল সিঙ্ক করে রাখতে পারবেন আপনার ওয়ানড্রাইভ স্টোরেজে। তাছাড়া মাইক্রোসফটের অফিস সুইট ব্যবহার করলে আপনি আপনার ডকুমেন্টগুলো সেইভ করে রেখে যেকোনো ডিভাইস থেকে এক্সেস অথবা এডিট  করতে পারবেন।

এন্ড্রয়েড, আইওএস, উইন্ডোজ ফোনসহ প্রায় সব ডিভাইসে ব্যবহার করা যায় ওয়ানড্রাইভ। এর ওয়েব ভার্সনটাও খুভ ভাল কাজ করে। এটা শুরুতেই আপনাকে ফ্রি ৫ জিবি স্টোরেজ দিবে। রেফার করে আরও ১০জিবি পর্যন্ত ফ্রি স্টোরেজ পাবেন। চাইলে ফি দিয়ে আপনার স্টোরেজ বাড়াতে পারবেন।

ভালো দিকগুলোঃ

  • উইন্ডোজ, ম্যাক, এন্ড্রয়েড, আইফোন ও উইন্ডোজ মোবাইল ডিভাইসের জন্য অ্যাপ রয়েছে।
  • ৫ জিবি ফ্রি স্টোরেজ সুবধা রয়েছে।
  • মাইফ্রোসফট একাউন্টের সাথে সহজেই সিঙ্ক করা যায়।

খারাপ দিকগুলোঃ

  • কোন ফাইল এনক্রিপশন নেই।
  • প্রিমিয়াম প্ল্যানগুলোর দাম অনেক বেশি।

ড্রপবক্স (Dropbox)

এটাও অনেক জনপ্রিয় ও খুবই নির্ভরযোগ্য ক্লাউড স্টোরেজ সার্ভিস। মোবাইল ও কম্পিউটার, সব ধরনের প্লাটফর্মের জন্যই এর অ্যাপ রয়েছে। ড্রপবক্স ক্লাউড স্টোরেজ ওয়েব ভার্সনেও ভালো কাজ করে। এর সবচেয়ে ভালো দিক হলো এর ফ্রেশ ইউজার ইন্টারফেস। কিন্তু  ড্রপবক্সে আপনি মাত্র ২জিবি স্টোরেজ ফ্রি পাবেন।এছাড়াও আপনি বন্ধুদের রেফার করে প্রতিজনের জন্য ৫০০ মেগাবাইট করে সর্বোচ্চ ১৬ জিবি পর্যন্ত ফ্রি স্টোরেজ পাবেন।আপনি চাইলে এটাকে বিভিন্ন সাশ্রয়ী প্ল্যানে “সাবস্ক্রাইব” করে ইচ্ছামত বাড়াতে পারবেন।

ভালো দিকগুলোঃ

  •  উইন্ডোজ ফোন, ম্যাক, এন্ড্রয়েড, আইফোন সকল ডিভাসের জন্য ড্রপবক্স অ্যাপ রয়েছে।
  • খুব সহজে ফাইল আপলোড এবং শেয়ার করা যায়।
  •  রেফারেলের মাধ্যমে ১৬ জিবি পর্যন্ত ফ্রি স্টোরেজ লিমিট বাড়ানো সম্ভব।

খারাপ দিকগুলোঃ

  • ফ্রি একাউন্টে ফাইল শেয়ারের পারমিশন নেই।
  • মাত্র ৩০দিনের ফ্রি ট্রায়াল পিরিয়ড।
  • শেয়ার করা ফাইলের লিংক মাঝেমাঝেই কাজ করেনা।

মিডিয়াফায়ার (MediaFire)

মিডিয়াফায়ার ফাইল শেয়ারিংয়ের জন্য বেশ জনপ্রিয়। মিডিয়াফায়ারে আপনি ৪ জিবির চেয়ে বড় ফাইলও স্টোর করতে পারবেন। সাইনআপ করলেই আপনি পাচ্ছেন ফ্রি ১০ জিবি ক্লাউড স্টোরেজ। এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো কোন না দিয়ে  শুধুমাত্র রেফার করে এবং তাদের সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ফলো করেই আপনি আর ৪০ জিবি ক্লাউড স্টোরেজ এর মালিক হতে পারবেন। চাইলে ইচ্চছামত ফি দিয়ে বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ তো আছেই।

ভালো দিকগুলোঃ

  • ১০ জিবি ফ্রি ফাইল হোস্টিং।
  • ৫০ জিবি পর্যন্ত ফ্রি হোস্টিং বাড়ানো সম্ভব।
  • সকল ধরনের ব্রাউজার, মোবাইল এবং অন্যান্য ডিভাইসের জন্য রয়েছে।
  • আপগ্রেডড প্ল্যানের মূল্য অনেক কম।

খারাপ দিকগুলোঃ

  • ফ্রি একাউন্টে ২০০ মেগাবাইটের বড় কোন ফাইল আপলোড করা যায় না।
  • ফ্রি একাউন্টে বিজ্ঞাপন দেখায়

অ্যামাজন ক্লাউড ড্রাইভ (Amazon Cloud Drive)

অন্যান্য ক্লাউড সার্ভিসে খুব পরিচিত নাম হলেও ক্লাউড স্টোরেজ এর ক্ষেত্রে টেক জায়ান্ট অ্যামাজন খুব বেশি এগিয়ে নেই। কিন্তু তারপরেও তারা বেশ ভালো কিছু সুযোগ দিচ্ছে তাদের ড্রাইভ ব্যবহারকারীদের জন্য। আপনি অ্যামাজন  ক্লাউডে সাইন আপ এর সাথে সাথেই ফ্রি ৫ জিবি স্টোরেজ পাচ্ছেন। এছাড়াও বাৎসরিক বিভিন্ন প্ল্যানের মাধ্যমে স্টোরেজ বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ তো থাকছেই।

ইয়ান্ডেক্স ডিস্ক (Yendex Disk)

ইয়ান্ডেক্স ক্লাউড রাশিয়ান টেক জায়ান্ট ক্লাউডিং এর ক্ষেত্রে বেশ ভালোই প্রতিযোগিতা করছে। ইয়ান্ডেক্সের সাইটে সাইনআপ করলেই ১০ জিবি ক্লাউড স্টোরেজ ফ্রি পাবেন। তাতেও না পোষালে টাকা দিয়ে বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ তো থাকছেই। তাদের ড্রাইভে আপনি চাইলে ডাউনলোড না করেই যে কোন আফিস ডকুমেন্ট খুলতে এবং এডিট করতে পারবেন। এছাড়া বিভিন্ন প্লাগিন ব্যবহার করে ইন্টারনেট থেকে সরাসরি কোন ফাইল ইয়ান্ডেক্স ড্রাইভে সেইভ করতে পারবেন। এটারও সব প্লাটফর্মের জন্যই অ্যাপ এর সুবিধা আছে।

পিক্লাউড (pCloud)

এই নামটি হয়তো আপনার কাছে নতুন লাগছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কম খরছে লাইফটাইম ক্লাউড স্টোরেজ দিয়ে পিক্লাউড অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পিক্লাউড প্রাথমিকভাবে আপনাকে ১০ জিবি ফ্রি স্টোরেজ দিবে। এটাকে চাইলে আপনি রেফারেলর সাহায্যে আরও বাড়িয়ে নিতে পারেন। কিন্তু আপনি চাইলে ১৭৫ ডলারে ৫০০ জিবি এবং ৩৫০ ডলারে ২ টেরাবাইট স্টোরেজ লাইফ টাইমের জন্য কিনে নিতে পারেন।

এটা অনেকেরই জন্য ডিল মেকার। এছাড়া অন্যান্য প্ল্যান তো আছেই। তাছাড়া ফাইল সাইজের কোন লিমিট না থাকায় এবং মাসে ৫০ জিবি  ব্যান্ডউইডথ পাচ্ছেন বলে যারা বেশি শেয়ারিং করেন তাদের জন্য ভাল হবে। প্রায় সব ধরনের প্লাটফর্মের জন্যই পিক্লাউড অ্যাপ ও ওয়েব ভার্সন এর সুবিধা আছে।

Leave a Comment